প্রত্যেক ফরজ নামাজের (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) পর এই যিকিরগুলো পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
এগুলো মিজানের পাল্লায় ভারী, গুনাহ মাফ করে এবং জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা দেয়। হাদীসে এদের বিশেষ গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।
১. ইস্তিগফার — ৩ বার
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
আসতাগফিরুল্লাহ
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(সালাম ফিরানোর সাথে সাথে ৩ বার পড়ুন)
২. নামাজ শেষের দোয়া (সালামের পর)
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
আল্লাহুম্মা আনতাস সালামu ওয়a মিনকাস সালামu তাবারাকতa ইয়a যাল জালালi ওয়াল ইকরাম
হে আল্লাহ! তুমিই শান্তি, আর তোমার কাছ থেকেই শান্তি আসে। তুমি বরকতময়, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।
৩. তাসবীহ (মিজানে সবচেয়ে ভারী — অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ)
হাদীস অনুসারে এই তাসবীহ মিজানের পাল্লা ভারী করে এবং জান্নাতের উপযোগী আমল।
সুবহানাল্লাহ — ৩৩ বার
سُبْحَانَ اللَّهِ
সুবহানাল্লাহ
আল্লাহ পবিত্র ও মহান।
আলহামদুলিল্লাহ — ৩৩ বার
الْحَمْدُ لِلَّهِ
আলহামদুলিল্লাহ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
আল্লাহু আকবার — ৩৪ বার
اللَّهُ أَكْبَرُ
আল্লাহu আকবার
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
মোট ১০০ বার (৩৩ + ৩৩ + ৩৪)। অনেকে শেষে لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ একবার পড়ে পূর্ণ করেন। এই আমলটি জান্নাতের চাবি বলে বর্ণিত হয়েছে।
৪. আয়াতুল কুরসী (প্রত্যেক নামাজের পর পড়া সুন্নাত)
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহu লা ইলাহa ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূমু লা তা’খুযুহu সিনাতuন ওয়a লা নাওমuন লাহu মa ফিস সামাওয়াতi ওয়a মa ফিল আরদi মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইন্দাহu ইল্লা বিইযনিহi ইয়a‘লামu মa বাইনa আইদীহিম ওয়a মa খালফাহুম ওয়a লা ইউহীতূনa বিশাইয়িম মিন ‘ইলমিহi ইল্লা বিমa শাআ ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহuস সামাওয়াতi ওয়াল আরদa ওয়a লা ইয়াঊদুহu হিফযুহুমa ওয়a হুয়াল ‘আলিয়্যুল ‘আযীম
আল্লাহ — তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বদা প্রতিষ্ঠিত। তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব তাঁরই। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে না। তিনি জানেন তাদের সামনে ও পেছনে যা আছে। তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না — শুধু তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে। আর তাদের উভয়ের হেফাজত করা তাঁর জন্য কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ, মহান।
৫. তিন কুল — সূরা ইখলাস, আল-ফালাক, আন-নাস (বিশেষ করে ফজর ও মাগরিবে)
সূরা আল-ইখলাস
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
কুল হুয়াল্লাহu আহাদ আল্লাহuস সামাদ লাম ইয়ালিদ ওয়a লাম ইউলাদ ওয়a লাম ইয়াকুল্লাহu কুফuwান আহাদ
বলুন: তিনি আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁর জন্ম হয়নি। আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।
সূরা আল-ফালাক
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
কুল আ‘উযু বিরাব্বিল ফালাকi মিন শাররি মa খালাকa ওয়a মিন শাররি গাসিকিন ইযa ওয়াকাবa ওয়a মিন শাররিন নাফফাসাতi ফিল ‘উকাদi ওয়a মিন শাররি হাসিদin ইযa হাসাদa
বলুন: আমি আশ্রয় চাই প্রভাতের রবের কাছে — সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে, অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে যখন তা গভীর হয়, গ্রন্থিতে ফুঁক দেওয়া জাদুর অনিষ্ট থেকে, এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
সূরা আন-নাস
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ إِلَٰهِ النَّاسِ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
কুল আ‘উযু বিরাব্বিন নাসi মালিকin নাসi ইলাহin নাসi মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাসi আল্লাযী ইউওয়াসউইসu ফী সুদূরin নাসi মিনাল জিন্নাতi ওয়ান নাস
বলুন: আমি আশ্রয় চাই মানুষের রবের কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের ইলাহের কাছে — ওয়াসওয়াসা (কuমন্ত্রণা) দানকারীর অনিষ্ট থেকে, যে মানুষের অন্তরে কuমন্ত্রণa দেয় — জিন ও মানুষ উভয় থেকে।
ফজর নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকিরে বসা অত্যন্ত উত্তম। এ সময়ের যিকির মিজানে বিশেষভাবে ভারী হয় এবং দিনের পুরোটা বরকতময় করে। নিচের যিকিরগুলো অতিরিক্ত করে পড়ুন:
ফজরের পর: জান্নাত চাওয়া ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয়
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ
আল্লাহুম্মা ইন্নī আসআলuকাল জান্নাতa ওয়a আ‘উযু বিকa মিনান নার
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জান্নাত চাই এবং তোমার কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই।
(৭ বার বা তার বেশি পড়া উত্তম — হাদীসে বিশেষ ফজিলত)
ফজরের পর: পবিত্র রিযিক, উপকারী জ্ঞান ও কবুল আমল
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ رِزْقًا طَيِّبًا وَعِلْمًا نَافِعًا وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا
আল্লাহুম্মা ইন্নī আসআলuকa রিযকan তায়্যিবan ওয়a ‘ইলm an নাফি‘আn ওয়a ‘আমালan মুতাকাব্বালan
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে পবিত্র রিযিক, উপকারী জ্ঞান ও কবুলযোগ্য আমল চাই।
ফজরের পর: সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ যিকির (মিজান ভারী)
سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
সuবহানাল্লাহi ওয়ালহামদুলিল্লাহi ওয়a লা ইলাহa ইল্লাল্লাহu ওয়াল্লাহu আকবার
আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
এই যিকিরটি মিজানের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় ১০০ বার পড়লে গুনাহ ঝরে যায় এবং জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা পাওয়া যায়। ফজরের পর বেশি করে পড়ুন।
বিশেষ নির্দেশনা ফজর নামাজের জন্য:
- সালাম ফিরিয়ে সোজা বসে থাকুন।
- প্রথমে ৩ বার ইস্তিগফার + নামাজ শেষের দোয়া পড়ুন।
- তারপর তাসবীহ (৩৩+৩৩+৩৪) পড়ুন।
- আয়াতুল কুরসী + তিন কুল পড়ুন।
- উপরের ফজরের বিশেষ দোয়াগুলো (জান্নাত-জাহান্নাম, রিযিক) পড়ুন।
- সূর্যোদয় পর্যন্ত যতক্ষণ সম্ভব সুবহানাল্লাহi ওয়ালহামদুলিল্লাহi... যিকির করুন।
এই আমলগুলো ফজরের পর করলে দিনটি নূরে ভরে যায় এবং মিজানে অসংখ্য নেকী জমা হয়।