দোয়া ও যিকির

দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় দোয়া সমূহ

সহজ বাংলা + আরবি + উচ্চারণ
🌙 ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার দোয়া
ঘুমাতে যাওয়ার সময়
اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا
আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমূতু ওয়া আহইয়া
হে আল্লাহ! তোমার নামে আমি মরি এবং বাঁচি।
ঘুম থেকে উঠে
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পর জীবিত করেছেন এবং তাঁরই দিকে আমাদের পুনরুত্থান।
🍽️ খাওয়া-দাওয়ার দোয়া
খাবার শুরু করার আগে
بِسْمِ اللَّهِ
বিসমিল্লাহ
আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।
খাবার শেষে
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আত’আমানা ওয়া সাক্বানা ওয়া জা’আলানা মিনাল মুসলিমীন
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে খাওয়িয়েছেন, পান করিয়েছেন এবং মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
🚪 বাড়ি থেকে বের হওয়া ও ফেরার দোয়া
বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়
بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ
বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ
আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর উপর ভরসা করছি।
বাড়িতে ফিরে আসার সময়
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খায়রাল মাওলিজি ওয়া খায়রাল মাখরাজি
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রবেশের কল্যাণ ও বের হওয়ার কল্যাণ চাই।
☀️ সকাল ও সন্ধ্যার দোয়া
সকালে
اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা ওয়া বিকা আমসায়না ওয়া বিকা নাহইয়া ওয়া বিকা নামূতু ওয়া ইলাইকাল মাসীরু
হে আল্লাহ! তোমারই সাহায্যে আমরা সকাল করেছি, তোমারই সাহায্যে সন্ধ্যা করি, তোমারই সাহায্যে বাঁচি ও মরি, আর তোমারই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন।
সন্ধ্যায়
اللَّهُمَّ مَا أَمْسَى بِي مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ
আল্লাহুম্মা মা আমসা বী মিন নি‘মাতিন আও বি আহাদিন মিন খালকিকা ফামিনকা ওয়াহদাকা লা শারীকা লাকা ফালাকাল হামদু ওয়া লাকাশ শুকরু
হে আল্লাহ! আমার উপর বা তোমার সৃষ্টির কারো উপর যে নিয়ামত সন্ধ্যায় এসেছে, তা একমাত্র তোমার কাছ থেকে, তোমার কোনো শরীক নেই। অতএব, তোমারই জন্য সমস্ত প্রশংসা ও শুকরিয়া।
🩹 অসুস্থতা, বিপদ ও দুঃখের দোয়া
অসুস্থ হলে
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
আল্লাহুম্মা রাব্বান্নাসি আযহিবিল বা’সা ওয়াশফি আনতাশ শাফী লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামান
হে আল্লাহ! মানুষের রব, কষ্ট দূর করে দাও এবং আরোগ্য দাও। তুমিই আরোগ্যকারী, তোমার আরোগ্য ছাড়া আর কোনো আরোগ্য নেই।
কোনো বিপদে পড়লে
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
হাসবুনাল্লাহu ওয়a নি‘মাল ওয়াকীল
আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
দুঃখ ও চিন্তায়
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ
আল্লাহুম্মা ইন্নī আ‘উযু বিকa মিনাল হাম্মi ওয়াল হাযানi
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে আশ্রয় চাই।
🙏 ক্ষমা চাওয়ার দোয়া (ইস্তিগফার)
সবচেয়ে উত্তম ইস্তিগফার (সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার)
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বী লা ইলাহa ইল্লা আনতা খালাকতানী ওয়a আনা আবদুকা ওয়a আনা আলা ‘আহদিকa ওয়a ওয়a‘দিকa মাসতাতা‘তু আ‘উযু বিকa মিন শাররি মa সানা‘তু আবূউ লাকa বিনি‘মাতিকa ‘আলাইয়্যa ওয়a আবূউ বি যাম্বী ফাগফির লী ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা
হে আল্লাহ! তুমিই আমার রব, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো এবং আমি তোমার বান্দা। আমি তোমার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির উপর আছি যতটুকু সম্ভব। আমি তোমার কাছে আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার নিয়ামতের স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আমার গুনাহের স্বীকারোক্তি করছি। অতএব, তুমি আমাকে ক্ষমা করো, কারণ তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
সংক্ষিপ্ত ইস্তিগফার
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
আসতাগফিরুল্লাহাল আযীমাল্লাযী লা ইলাহa ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি
আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও সর্বদা প্রতিষ্ঠিত, আর আমি তাঁর দিকে তাওবা করছি।
🛡️ সুরক্ষা ও আশ্রয়ের দোয়া
চোখের দৃষ্টি ও সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
আ‘উযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতi মিন শাররি মa খালাকa
আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ বাক্যসমূহের আশ্রয় চাই সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে।
ভয়, শত্রু ও অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
আল্লাহুম্মা ইন্নī আ‘উযু বিকa মিন শাররি মa আজিদu ওয়a উহাযিরu
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে যা পাই এবং যা থেকে সতর্ক থাকি তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।
🕌 নামাজের পরের যিকির ও দোয়া

প্রত্যেক ফরজ নামাজের (ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা) পর এই যিকিরগুলো পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এগুলো মিজানের পাল্লায় ভারী, গুনাহ মাফ করে এবং জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা দেয়। হাদীসে এদের বিশেষ গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।

১. ইস্তিগফার — ৩ বার
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
আসতাগফিরুল্লাহ
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(সালাম ফিরানোর সাথে সাথে ৩ বার পড়ুন)
২. নামাজ শেষের দোয়া (সালামের পর)
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
আল্লাহুম্মা আনতাস সালামu ওয়a মিনকাস সালামu তাবারাকতa ইয়a যাল জালালi ওয়াল ইকরাম
হে আল্লাহ! তুমিই শান্তি, আর তোমার কাছ থেকেই শান্তি আসে। তুমি বরকতময়, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।
৩. তাসবীহ (মিজানে সবচেয়ে ভারী — অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ)

হাদীস অনুসারে এই তাসবীহ মিজানের পাল্লা ভারী করে এবং জান্নাতের উপযোগী আমল।

সুবহানাল্লাহ৩৩ বার

سُبْحَانَ اللَّهِ
সুবহানাল্লাহ
আল্লাহ পবিত্র ও মহান।

আলহামদুলিল্লাহ৩৩ বার

الْحَمْدُ لِلَّهِ
আলহামদুলিল্লাহ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আল্লাহু আকবার৩৪ বার

اللَّهُ أَكْبَرُ
আল্লাহu আকবার
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
মোট ১০০ বার (৩৩ + ৩৩ + ৩৪)। অনেকে শেষে لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ একবার পড়ে পূর্ণ করেন। এই আমলটি জান্নাতের চাবি বলে বর্ণিত হয়েছে।
৪. আয়াতুল কুরসী (প্রত্যেক নামাজের পর পড়া সুন্নাত)
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহu লা ইলাহa ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূমু লা তা’খুযুহu সিনাতuন ওয়a লা নাওমuন লাহu মa ফিস সামাওয়াতi ওয়a মa ফিল আরদi মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইন্দাহu ইল্লা বিইযনিহi ইয়a‘লামu মa বাইনa আইদীহিম ওয়a মa খালফাহুম ওয়a লা ইউহীতূনa বিশাইয়িম মিন ‘ইলমিহi ইল্লা বিমa শাআ ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহuস সামাওয়াতi ওয়াল আরদa ওয়a লা ইয়াঊদুহu হিফযুহুমa ওয়a হুয়াল ‘আলিয়্যুল ‘আযীম
আল্লাহ — তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বদা প্রতিষ্ঠিত। তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব তাঁরই। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে না। তিনি জানেন তাদের সামনে ও পেছনে যা আছে। তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না — শুধু তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে। আর তাদের উভয়ের হেফাজত করা তাঁর জন্য কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ, মহান।
৫. তিন কুল — সূরা ইখলাস, আল-ফালাক, আন-নাস (বিশেষ করে ফজর ও মাগরিবে)

সূরা আল-ইখলাস

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۝ اللَّهُ الصَّمَدُ ۝ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۝ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
কুল হুয়াল্লাহu আহাদ আল্লাহuস সামাদ লাম ইয়ালিদ ওয়a লাম ইউলাদ ওয়a লাম ইয়াকুল্লাহu কুফuwান আহাদ
বলুন: তিনি আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁর জন্ম হয়নি। আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।

সূরা আল-ফালাক

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۝ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ۝ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ۝ وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ۝ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
কুল আ‘উযু বিরাব্বিল ফালাকi মিন শাররি মa খালাকa ওয়a মিন শাররি গাসিকিন ইযa ওয়াকাবa ওয়a মিন শাররিন নাফফাসাতi ফিল ‘উকাদi ওয়a মিন শাররি হাসিদin ইযa হাসাদa
বলুন: আমি আশ্রয় চাই প্রভাতের রবের কাছে — সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে, অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে যখন তা গভীর হয়, গ্রন্থিতে ফুঁক দেওয়া জাদুর অনিষ্ট থেকে, এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।

সূরা আন-নাস

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۝ مَلِكِ النَّاسِ ۝ إِلَٰهِ النَّاسِ ۝ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ۝ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ۝ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
কুল আ‘উযু বিরাব্বিন নাসi মালিকin নাসi ইলাহin নাসi মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাসi আল্লাযী ইউওয়াসউইসu ফী সুদূরin নাসi মিনাল জিন্নাতi ওয়ান নাস
বলুন: আমি আশ্রয় চাই মানুষের রবের কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের ইলাহের কাছে — ওয়াসওয়াসা (কuমন্ত্রণা) দানকারীর অনিষ্ট থেকে, যে মানুষের অন্তরে কuমন্ত্রণa দেয় — জিন ও মানুষ উভয় থেকে।
🌅 ফজর নামাজের পর বিশেষ যিকির (অতিরিক্ত ফজিলত ও মিজান ভারী)

ফজর নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকিরে বসা অত্যন্ত উত্তম। এ সময়ের যিকির মিজানে বিশেষভাবে ভারী হয় এবং দিনের পুরোটা বরকতময় করে। নিচের যিকিরগুলো অতিরিক্ত করে পড়ুন:

ফজরের পর: জান্নাত চাওয়া ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয়
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ
আল্লাহুম্মা ইন্নī আসআলuকাল জান্নাতa ওয়a আ‘উযু বিকa মিনান নার
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জান্নাত চাই এবং তোমার কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই।
(৭ বার বা তার বেশি পড়া উত্তম — হাদীসে বিশেষ ফজিলত)
ফজরের পর: পবিত্র রিযিক, উপকারী জ্ঞান ও কবুল আমল
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ رِزْقًا طَيِّبًا وَعِلْمًا نَافِعًا وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا
আল্লাহুম্মা ইন্নī আসআলuকa রিযকan তায়্যিবan ওয়a ‘ইলm an নাফি‘আn ওয়a ‘আমালan মুতাকাব্বালan
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে পবিত্র রিযিক, উপকারী জ্ঞান ও কবুলযোগ্য আমল চাই।
ফজরের পর: সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ যিকির (মিজান ভারী)
سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
সuবহানাল্লাহi ওয়ালহামদুলিল্লাহi ওয়a লা ইলাহa ইল্লাল্লাহu ওয়াল্লাহu আকবার
আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
এই যিকিরটি মিজানের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় ১০০ বার পড়লে গুনাহ ঝরে যায় এবং জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা পাওয়া যায়। ফজরের পর বেশি করে পড়ুন।
বিশেষ নির্দেশনা ফজর নামাজের জন্য:
  • সালাম ফিরিয়ে সোজা বসে থাকুন।
  • প্রথমে ৩ বার ইস্তিগফার + নামাজ শেষের দোয়া পড়ুন।
  • তারপর তাসবীহ (৩৩+৩৩+৩৪) পড়ুন।
  • আয়াতুল কুরসী + তিন কুল পড়ুন।
  • উপরের ফজরের বিশেষ দোয়াগুলো (জান্নাত-জাহান্নাম, রিযিক) পড়ুন।
  • সূর্যোদয় পর্যন্ত যতক্ষণ সম্ভব সুবহানাল্লাহi ওয়ালহামদুলিল্লাহi... যিকির করুন।

এই আমলগুলো ফজরের পর করলে দিনটি নূরে ভরে যায় এবং মিজানে অসংখ্য নেকী জমা হয়।

💡 মনে রাখার কথা

দোয়া হলো মুমিনের অস্ত্র। যত বেশি দোয়া ও যিকির করবেন, আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক তত বেশি মজবুত হবে।

প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় এবং প্রত্যেক নামাজের পর নিয়মিত যিকিরের অভ্যাস গড়ে তুলুন। বিশেষ করে ফজর নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকিরে বসলে মিজানের পাল্লা ভারী হয় এবং দিনের শুরু বরকতময় হয়। ধীরে ধীরে সব দোয়া ও যিকির মুখস্থ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে দোয়া কবুলকারী ও যিকিরকারী বানান। আমীন।